বৌদ্ধধর্ম

গৌতম বুদ্ধ (563-483 খ্রিস্টপূর্ব)

  • জন্মস্থান: লুম্বিনি, কপিলাবস্তু (বর্তমান নেপাল)।
  • পিতা: শুদ্ধোধন, মাতা: মহামায়া বা মায়াদেবী, পালক মাতা: গৌতমী, স্ত্রী: যশোধরা।
  • অপর নাম: শাক্যমুনি, তথাগত।
  • প্রকৃত নাম: সিদ্ধার্থ।
  • দিব্যলাভের স্থান: বোধগয়া, অশ্বত্থ গাছের নীচে, নৈরঞ্জনা নদীর তীরে।
  • প্রথম ধর্মোপদেশ: সারনাথে
  • মহাপরিনির্বাণ (মৃত্যু): কুশিনগর

বৌদ্ধধর্মের মূল তিনটি স্তম্ভ (ত্রিরত্ন)

  • বুদ্ধ: প্রবর্তক।
  • ধম্ম: শিক্ষা।
  • সংঘ: বৌদ্ধ মঠ ও সন্ন্যাসীদের নিয়মাবলি।

বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ

  • ত্রিপিটক: বিনয়পিটক, সুত্তপিটক ও অভিধর্মপিটক।
  • বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলি পালি ভাষায় রচিত।
  • অন্যান্য গ্রন্থ: জাতক, বুদ্ধবংশ, মিলিন্দপানহো, দীপবংশ, বৈপুল্যসূত্র ব সধর্ম পুন্ডরিকা (অশ্বঘোষ)।
পিটকরচয়িতারচনাকালবিষয়
বিনয়উপালিপ্রথম বৌদ্ধ সম্মেলনবৌদ্ধ মঠের নিয়মাবলি
সুত্তপিটকআনন্দপ্রথম বৌদ্ধ সম্মেলনবুদ্ধের উপদেশ
অভিধর্মপিটকতিস্যতৃতীয় বৌদ্ধ সম্মেলনবৌদ্ধধর্ম দর্শন

আষ্টাঙ্গিক মার্গ

আষ্টাঙ্গিক মার্গ (অর্থাৎ অষ্টাঙ্গিক পথ) হল বৌদ্ধ ধর্মে নির্বাণ বা মুক্তি লাভের জন্য গৌতম বুদ্ধ প্রদত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ। এটি চতুরার্য সত্যের চতুর্থ সত্য – “দুঃখ নিরোধ গামিনী প্রতিপদ” – অর্থাৎ দুঃখ থেকে মুক্তির পথ।

“আষ্টাঙ্গিক মার্গ” মানে – আটটি অঙ্গবিশিষ্ট পথ। এই আটটি অঙ্গ একে অপরের সাথে সংযুক্ত এবং সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আষ্টাঙ্গিক মার্গের ৮টি অঙ্গ:

ক্র.বাংলা নামব্যাখ্যা
১সম্যক দৃষ্টীসঠিক ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি – জীবনের প্রকৃত সত্য বোঝা (যেমন চতুরার্য সত্য)।
২সম্যক সংকল্পসঠিক সংকল্প বা অভিপ্রায় – অহিংস, সংযত ও করুণাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করা।
৩সম্যক বাকসঠিক বাক্য ব্যবহার – মিথ্যা, কুৎসা, কঠোর এবং অনর্থক কথা পরিহার।
৪সম্যক কর্মসঠিক কাজ – হত্যা, চুরি, অসৎ কর্ম এড়িয়ে শুদ্ধ কর্ম করা।
৫সম্যক আজীবিকাসৎ জীবিকা – এমন পেশা গ্রহণ করা যা অন্যকে কষ্ট না দেয়।
৬সম্যক ব্যায়ামসঠিক চেষ্টা – মন্দ প্রবৃত্তি দমন ও সদ্‌গুণ অর্জনে সচেষ্ট থাকা।
৭সম্যক স্মৃতিসঠিক মনোসংযোগ – বর্তমান মুহূর্তে মনোনিবেশ ও সচেতন থাকা।
৮সম্যক সমাধিসঠিক ধ্যান বা একাগ্রতা – চিত্তকে শান্ত ও গভীর ধ্যানে স্থিত রাখা।

বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতীক

  • বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলি পালি ভাষায় রচিত।
  • জন্ম: পদ্ম ও ষাঁড়।
  • নির্বাণ লাভ: বোধিবৃক্ষ।
  • মৃত্যু: স্তূপ।
  • মহাভিনিষ্ক্রমণ: ঘোড়া।
  • ধর্মচক্র প্রবর্তন: চক্র।

বৌদ্ধ সম্মেলন

  1. প্রথম বৌদ্ধ সম্মেলন
  2. সময়: 483 খ্রিস্টপূর্ব
  3. স্থান: রাজগৃহ
  4. রাজা: অজাতশত্রু
  5. সভাপতি: মহাকশ্যপ
  6. বৈশিষ্ট্য: বিনয়পিটক ও সুত্তপিটক রচিত হয়
  • দ্বিতীয় বৌদ্ধ সম্মেলন
  • সময়: 383 খ্রি.পূ.
  • স্থান: বৈশালী
  • রাজা: কালাশোক (শিশুনাগ)
  • সভাপতি: সাবাকামি
  • বৈশিষ্ট্য: মহাসংগ্রাহিকা ও স্তবিরমর্দিন শাখায় বিভক্ত
  • তৃতীয় বৌদ্ধ সম্মেলন
  • সময়: 250 খ্রিস্টপূর্ব
  • রাজা: অশোক (মৌর্য)
  • স্থান: পাটলিপুত্র
  • সভাপতি: তিস্য
  • বৈশিষ্ট্য: অভিধর্মপিটক রচিত হয়
  • চতুর্থ বৌদ্ধ সম্মেলন
  • সময়: 72 খ্রি.।
  • রাজা: কনিষ্ক।
  • সহসভাপতি: অশ্বঘোষ।
  • স্থান: কুন্দলবন/জলন্ধর।
  • সভাপতি: বসুমিত্র।
  • বৈশিষ্ট্য: হীনযান ও মহাযান শাখার উদ্ভব, মহাবিভাষা রচিত হয়।
  • গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ সম্মেলন
  • সময়: 383 খ্রি.।
  • রাজা: হর্ষবর্ধন।
  • স্থান: কনৌজ।
  • সভাপতি: হিউয়েন সাং।
  • প্রথম মানব মূর্তির পূজা করা হয় বৌদ্ধধর্মে।
  • হীনযান শাখা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না।
Facebook
Twitter
LinkedIn

Books You Must Have

Scholar Academy এর এই বইগুলি WBP, KP, SSC Group C ও D পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক

See All Printed Books