- পলিমৃত্তিকা: উত্তর ভারতের বিশালাকৃতির সমভূমি নদীবাহিত পলিমৃত্তিকা সঞ্চিত হয়েই গঠিত হয়েছে। এই মৃত্তিকা অত্যন্ত উর্বর প্রকৃতির হয়। এই পলি মৃত্তিকাকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়। নতুন মৃত্তিকা (খাদার) এবং প্রাচীন মৃত্তিকা (ভাঙর)। ধান, গম চাষের জন্য এই মৃত্তিকা অত্যন্ত উপযোগী। এটি ভারতের সমগ্র ভূভাগের প্রায় 46.2% অঞ্চল জুড়ে আছে।
পলিমৃত্তিকা (Alluvial Soil) হলো ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তৃত মাটির ধরন। এটি নদীর দ্বারা আনা পলির সঞ্চয়ে গঠিত। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু এবং তাদের উপনদীগুলির অববাহিকা প্রধানত এই মাটি দ্বারা আবৃত।
গঠন ও উৎপত্তি
- নদীর দ্বারা আনা পলি (বালি, দোআঁশ, কাদা) থেকে গঠিত।
- হিমালয় ও অন্যান্য উঁচু অঞ্চল থেকে ক্ষয় হয়ে আসা শিলার গুঁড়ো থেকে উৎপন্ন।
অবস্থান
- উত্তর ভারতীয় সমভূমি (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ)।
- কিছু অংশ পেনিনসুলার নদী অববাহিকায়ও (গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী)।
বৈশিষ্ট্য
- রং: হালকা ধূসর থেকে বাদামী।
- গঠন: বালি, দোআঁশ ও কাদার মিশ্রণ।
- উর্বরতা: অত্যন্ত উর্বর (ধান, গম, পাট, আখ ইত্যাদি চাষের জন্য উপযুক্ত)।
- খনিজ: পটাশ, চুন, ফসফরিক অ্যাসিড বিদ্যমান; নাইট্রোজেন ও হিউমাস তুলনামূলক কম।
প্রকারভেদ
- খাদার: নতুন পলি, নদীর কাছে, খুব উর্বর।
- ভাঙ্গার: পুরনো পলি, তুলনামূলক উঁচু স্থানে, কম উর্বর।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- ভারতের প্রধান খাদ্যশস্যের চাষ এই মাটিতে হয়।
- পাট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা)।
- কৃষ্ণমৃত্তিকা: এই প্রকার মৃত্তিকায় লৌহ, অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের লবণের মাত্রা অধিক পরিমাণে থাকে যার ফলে এই মৃত্তিকার রং কালো হয়। এই মৃত্তিকার কণাগুলি অত্যন্ত ঘন প্রকৃতির হওয়ায় মৃত্তিকার জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। এই মৃত্তিকা মূলত মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশে দেখা যায়। এই মৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
কৃষ্ণমৃত্তিকা (Black Soil) যাকে রেগুর মাটি বা কৃষ্ণমাটি বলা হয়, এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাটির ধরন। প্রধানত এটি ডেকান ট্র্যাপ অঞ্চলে গঠিত।
গঠন ও উৎপত্তি
- আগ্নেয় শিলা (বেসাল্ট) ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গঠিত।
- উচ্চমাত্রায় কাদামাটি (Clay) বিদ্যমান, তাই জলধারণ ক্ষমতা বেশি।
অবস্থান
- মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর কিছু অংশ।
- মূলত দাক্ষিণাত্য মালভূমি ও ডেকান ট্র্যাপ অঞ্চলে।
বৈশিষ্ট্য
- রং: কালো (টাইটানিয়াম, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের কারণে)।
- গঠন: কাদাময়, ভারী।
- জলধারণ ক্ষমতা: অত্যন্ত বেশি, তাই গ্রীষ্মকালে ফাটল ধরে।
- pH: ক্ষারীয় প্রকৃতি।
- হিউমাস: কম।
- খনিজ: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশ সমৃদ্ধ; নাইট্রোজেন কম।
প্রধান ফসল
- তুলা (Cotton) – এজন্য একে কৃষ্ণমাটি = তুলার মাটি বলা হয়।
- এছাড়া জোয়ার, বাজরা, ডাল, তেলবীজ, আখ।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- গ্রিন রেভলিউশনের পর তুলা চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- শুষ্ক অঞ্চলেও কৃষির জন্য উপযোগী কারণ জল ধরে রাখতে পারে।
- লাল বা লোহিত মৃত্তিকা: এই মৃত্তিকার নির্মাণ আগ্নেয়শিলা, যেমন-গ্র্যানাইট, নিস্ ইত্যাদি শিলার চূর্ণ থেকে সৃষ্টি হয়। লৌহের তারতম্যের জন্য এই মৃত্তিকায় রঙের তারতম্য দেখতে পাওয়া যায়। এই মৃত্তিকা মূলত দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায়। এই মৃত্তিকায় উৎপন্ন উল্লেখযোগ্য ফসলগুলি হল বাজরা, জোয়ার, তামাক ইত্যাদি।
লাল বা লোহিত মৃত্তিকা (Red Soil) ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাটির ধরন, যার রঙ প্রধানত লোহা অক্সাইডের উপস্থিতির কারণে লাল বা লালচে হয়।
গঠন ও উৎপত্তি
- প্রধানত গ্রানাইট ও গনাইস শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গঠিত।
- শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ুতে রাসায়নিক ক্ষয় বেশি হওয়ায় এই মাটি তৈরি হয়েছে।
অবস্থান
- তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ এবং ছোটনাগপুর মালভূমি।
- ভারতের মোট মাটির প্রায় ১৮% অংশ লাল মাটি।
বৈশিষ্ট্য
- রং: লাল (লোহা অক্সাইডের জন্য), মাঝে মাঝে হলদে (হাইড্রেটেড লৌহ অক্সাইডের কারণে)।
- গঠন: বালুময় থেকে দোআঁশ, কখনও কাদামাটির মতো।
- উর্বরতা: নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও জৈবপদার্থে দরিদ্র।
- pH: অম্লীয় থেকে নিরপেক্ষ।
- জলধারণ ক্ষমতা: মাঝারি।
প্রধান ফসল
- বাজরা, মকাই, ডাল, চিনাবাদাম, তুলা, আখ।
- পর্যাপ্ত সেচের মাধ্যমে ধানও চাষ হয়।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- শুষ্ক অঞ্চলে চাষের জন্য ব্যবহৃত।
- উন্নত কৃষি করার জন্য সারের প্রয়োজন।
- ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা: এই মৃত্তিকার নির্মাণ মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ আর্দ্রতা এবং শুষ্কতার ক্রমিক পরিবর্তনের জন্য লিচিং প্রক্রিয়ার দ্বারা সৃষ্টি হয়। এই মৃত্তিকায় সিলিকার পরিমাণ কম এবং লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ বেশি। অধিক উচ্চতায় প্রাপ্ত ল্যাটেরাইট নিম্নক্ষেত্রে প্রাপ্ত ল্যাটেরাইটের তুলনায় অধিক ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়। এই মাটি ঝাড়খন্ডের রাজমহলে পূর্ব আর পশ্চিমঘাট পর্বত এবং মেঘালয়ের পাহাড়ে পরিলক্ষিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরেও এই মৃত্তিকা পাওয়া যায়। এই মৃত্তিকায় উৎপাদিত প্রধান ফসলগুলি হল চা এবং কফি।
ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা (Laterite Soil) হলো ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাটির ধরন, যা প্রধানত উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে প্রবল রাসায়নিক আবহবিকার (Intense Leaching) এর ফলে গঠিত।
গঠন ও উৎপত্তি
- উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রচুর বৃষ্টির ফলে শিলার খনিজ লিচিং (ধুয়ে বেরিয়ে যাওয়া) হয়ে অ্যালুমিনিয়াম ও লোহার অক্সাইড বেশি পরিমাণে জমে এই মাটি তৈরি হয়।
- শব্দ Laterite ল্যাটিন শব্দ Later থেকে এসেছে, যার অর্থ “ইট”, কারণ শুকালে এটি শক্ত হয়ে ইটের মতো হয়ে যায়।
অবস্থান
- পশ্চিমঘাট (কেরালা, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র),
- পূর্বঘাট (অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, ওড়িশা),
- ছোটনাগপুর মালভূমি,
- উত্তর-পূর্ব ভারত (আসাম, মেঘালয়)।
বৈশিষ্ট্য
- রং: লালচে বাদামী (লোহা অক্সাইডের কারণে)।
- উর্বরতা: নাইট্রোজেন, পটাশ, ফসফরাস কম; তাই প্রাকৃতিকভাবে দরিদ্র।
- অম্লীয় প্রকৃতি।
- প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে এটি শক্ত ও ইটের মতো হয়ে যায়।
প্রধান ফসল
- চা, কফি (পশ্চিমঘাটের পাহাড়ি ঢালে)।
- কাজুবাদাম, কাঁঠাল, রাবার।
- সঠিক সারের ব্যবহারে ধানও উৎপাদিত হয়।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- রাস্তার জন্য ইট ও নির্মাণসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত (শুকনো ল্যাটেরাইট ব্লক)।
- চা, কফি বাগানের জন্য আদর্শ মাটি।
- মরু মৃত্তিকা: আরাবল্লি শ্রেণির পশ্চিমে শুষ্ক জলবায়ুর জন্য অর্থাৎ এই অংশে সূর্যের কিরণ লম্বভাবে পতিত হওয়ায় তাপমাত্রা অধিক হয়। ফলে শিলাখণ্ড ফেটে গিয়ে তা থেকে মৃত্তিকা তৈরি হয়। এই মাটি রাজস্থান এবং হরিয়ানার দক্ষিণ-পশ্চিম ভাগে পাওয়া যায়। একমাত্র উন্নত সেচকার্যের মাধ্যমেই এখানে কৃষিকাজ সম্পন্ন হয়।
মরু মৃত্তিকা (Desert Soil) হলো শুষ্ক ও অনুর্বর অঞ্চলে গঠিত বালুময় মাটি, যা ভারতের পশ্চিমাংশে বিশেষভাবে দেখা যায়।
গঠন ও উৎপত্তি
- মরুভূমি অঞ্চলের শুষ্ক পরিবেশে বায়ুর দ্বারা বালু সঞ্চয়ের ফলে গঠিত।
- প্রধানত বালুময় কণা; জৈবপদার্থ প্রায় নেই।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেটের আস্তরণ (ক্যালসিয়াম সঞ্চিত স্তর) থাকে।
অবস্থান
- রাজস্থান (থর মরুভূমি), গুজরাটের কিছু অংশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শুষ্ক এলাকা।
বৈশিষ্ট্য
- রং: হালকা বাদামী থেকে হলদে।
- গঠন: বালুময় (জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম)।
- উর্বরতা: প্রাকৃতিকভাবে দরিদ্র; নাইট্রোজেন ও জৈবপদার্থের অভাব।
- pH: ক্ষারীয়।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেটের কারণে মাটির নিচে কঙ্কর স্তর তৈরি হয়।
প্রধান ফসল
- সেচের মাধ্যমে গম, বাজরা, ডাল, তিল, বার্লি।
- ইন্দিরা গান্ধী খাল প্রকল্পের কারণে কিছু স্থানে চাষাবাদ সম্ভব হয়েছে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- পশুপালন (উট, ছাগল)।
- লবণ ও খনিজ পদার্থের উৎস।
- অরণ্য এবং পর্বতীয় মৃত্তিকা: এই প্রকার মৃত্তিকা সাধারণত অরণ্যে এবং পর্বতক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রকার মৃত্তিকায় জৈব পদার্থ এবং নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়।
অরণ্য ও পর্বতীয় মৃত্তিকা (Forest and Mountain Soils) ভারতের পার্বত্য ও অরণ্যাঞ্চলে গঠিত বিশেষ ধরনের মাটি। এগুলি প্রধানত উচ্চভূমি অঞ্চলের জলবায়ু, উদ্ভিদ ও শিলার ক্ষয়ের ফলে তৈরি হয়।
গঠন ও উৎপত্তি
- পাহাড়ি ঢালে শিলার ক্ষয় থেকে গঠিত।
- প্রচুর জৈবপদার্থের ক্ষয়প্রাপ্ত স্তর রয়েছে (পাতা, গাছের অংশ ইত্যাদি থেকে হিউমাস)।
অবস্থান
- হিমালয় (কাশ্মীর, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, সিকিম, অরুণাচল)।
- পশ্চিমঘাট, পূর্বঘাটের উঁচু এলাকা।
বৈশিষ্ট্য
- রং: গাঢ় বাদামী থেকে কালচে।
- হিউমাস: প্রচুর, তাই উর্বর।
- রাসায়নিক উপাদান: নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ, কিন্তু পটাশ ও ফসফরাস কম।
- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে মাটির ধরনে পরিবর্তন ঘটে:
- নীচের অংশে – বাদামী বন মাটি।
- উঁচু অংশে – পডজল মাটি, এমনকি তুষারঢাকা অঞ্চলে অনুর্বর মাটি।
প্রধান ফসল ও উদ্ভিদ
- নীচের অঞ্চলে: ধান, ভুট্টা, গম।
- উঁচু অঞ্চলে: চা, কফি, ফল (আপেল, আঙুর)।
- বনাঞ্চল: শাল, সেগুন, শঙ্কুযুক্ত বৃক্ষ।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- চা ও কফি বাগান (দার্জিলিং, নীলগিরি)।
- ফল উৎপাদন (হিমালয়, নীলগিরি)।
- লবণাক্ত এবং ক্ষারীয় মৃত্তিকা: এই প্রকার মৃত্তিকা অনুর্বর, অনুৎপাদক এবং সাধারণত ধূসর রঙের হয়। সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের ভাগ এই মৃত্তিকায় বেশি। উত্তর ভারতের শুষ্ক এবং আর্দ্রশুষ্ক অঞ্চল, যেমন-পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং বিহারের কিছু অংশে এই প্রকার মৃত্তিকা দেখতে পাওয়া যায়।
লবণাক্ত ও ক্ষারীয় মৃত্তিকা (Saline and Alkaline Soils) হলো ভারতের এমন এক ধরনের মাটি যেখানে লবণ বা ক্ষারের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি, ফলে এগুলি প্রাকৃতিকভাবে অনুর্বর।
গঠন ও উৎপত্তি
- শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক অঞ্চলে পানির বাষ্পীভবনের ফলে লবণের স্তর জমা হয়।
- অতিরিক্ত সেচ, দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়।
- সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ বেশি থাকে।
অবস্থান
- রাজস্থান, গুজরাটের রান অঞ্চল (কচ্ছের রান)।
- হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের সেচ অঞ্চল।
- দক্ষিণ ভারতে কিছু উপকূলীয় এলাকা।
বৈশিষ্ট্য
- রং: ধূসর বা সাদাটে আস্তরণ।
- মাটির উপরিভাগে লবণের সাদা আস্তরণ থাকে।
- pH: অত্যন্ত ক্ষারীয় (৮.৫-এর বেশি)।
- নাইট্রোজেন ও জৈবপদার্থের অভাব।
- জলধারণ ক্ষমতা কম।
ফসল
- স্বাভাবিকভাবে অনুর্বর, কিন্তু উন্নত সেচ ও জিপসাম প্রয়োগ করলে কিছু ফসল জন্মায়।
- প্রধানত: ধান, গম, বার্লি, আখ।
অর্থনৈতিক সমস্যা ও সমাধান
- সেচের অপব্যবহার থেকে লবণাক্ততা বাড়ে।
- সমাধান: ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা, জিপসাম প্রয়োগ, নোনা সহনশীল ফসল।
- পীট অথবা জৈব মৃত্তিকা: লবণ এবং বিভিন্ন জৈব পদার্থ দ্বারা গঠিত এই মৃত্তিকা কেরলের আলেপ্পি এবং কোট্টায়াম জেলা, বিহারের পূর্বভাগ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ তথা পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু অঞ্চলে পরিলক্ষিত হয়।
পীট বা জৈব মৃত্তিকা (Peaty & Organic Soil) হলো ভারতে পাওয়া বিশেষ ধরনের মাটি যা প্রচুর হিউমাস ও আর্দ্র উপাদানে সমৃদ্ধ। এগুলি প্রধানত জলাবদ্ধ অঞ্চল বা জৈব পদার্থ জমে থাকা অঞ্চলে গঠিত হয়।
গঠন ও উৎপত্তি
- মৃত উদ্ভিদ, গাছপালা ও অন্যান্য জৈব পদার্থ দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধ অবস্থায় পচে গিয়ে মাটিতে জমা হয়।
- আর্দ্র এবং জলাবদ্ধ পরিবেশে এই মাটি তৈরি হয়।
অবস্থান
- কেরালা (কোয়ালান্ড অঞ্চল),
- পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এলাকা,
- উত্তর বিহার,
- অসমের কিছু জলাভূমি অঞ্চল।
বৈশিষ্ট্য
- রং: গাঢ় বাদামী থেকে কালচে।
- হিউমাস: অত্যধিক (৬০% পর্যন্ত জৈব পদার্থ)।
- জলাবদ্ধতার কারণে খুব বেশি আর্দ্র।
- অম্লীয় প্রকৃতি (Acidic) – pH প্রায় ৪.০–৬.০।
- নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ, কিন্তু পটাশ ও ফসফরাস কম।
প্রধান ফসল
- ধান (সেচের মাধ্যমে)।
- কিছু ক্ষেত্রে নোনা সহনশীল ফসল।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- কৃষির জন্য প্রাকৃতিকভাবে বেশি উপযোগী নয়।
- উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও চুন প্রয়োগে চাষ সম্ভব।




